যত কান্ড ভূ-স্বর্গ তে ( ইতিহাসের পাতা থেকে কাশ্মীর) (দিত্বীয় পর্ব)
হরি সিং
য়ের শাসন কালে প্রথম
শুরু হয় রাজতন্ত্রের
বিরুদ্ধে গনতন্ত্র প্রতিষ্টার লড়াই ই ভারতের
প্রজারা ব্রিটিশ
রাজ উচ্ছেদের জন্য যেমন আন্দোলনে
সামিল হয়ে ছিল, তেমনই
কাশ্মীরে শুরু হয়ে ছিল
মহারাজ হরি সিং
উচ্ছেদের
আন্দোলন I
রাজতন্ত্রের
বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের সুচনা
হয়ে ছিল "সারা জম্মু ও
কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্সের " হাত
ধরে I
যার প্রধান নেতা ছিলেন
শেখ মহম্মদ আব্দুল্লা I কনফারেন্সের
নামের সঙ্গে 'মুসলিম' লেখা
থাকলেও, এই লড়াই এ
অনেক শিক্ষিত হিন্দু ধর্মালম্বীও সামিল হয়ে ছিল I রাজার স্বেছাচারিতা ও স্বেইরাতান্ত্র এর বিরুদ্ধে ছিল এই লড়াইএই আন্দোলনের ভয়ে রাজা হরি সিং দেশ শাসনে কিছুটা আধুনিকতা আনলেন I শাসন কার্যে রাজাকে সাহায্য করার
জন্য একটা পরিষদের গঠন
করা হলো I অবশ্য পরিষদে
রাজার মনোনীতদের সংখ্যায় বেশি, সেটা আলাদা
কথা I
১৯৩৮ এ
বন্ধু জওহরলাল অনুরোধ করেন শেখ
আবদুল্লাকে কনফারেন্সের নাম থেকে 'মুসলিম'
শব্দটা ছেঁটে ফেলার
জন্য
I এবং ১৯৩৯ এ মুসলিম
কনফারেন্সের নাম 'কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স' করার
প্রস্তাব ১৭-৩ ভোট গৃহিত হয় I
এত কিছুর পরেও কিন্তু রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের তীব্রতায়
কোনো রকম কমতি হয়নি ;বরং আরো তীব্রতর হয়েছে ততদিনে
I ১৯৪২ এ ভারতীয়দের ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে "ইংরেজ ভারত ছাড়" বা "কুইট
ইন্ডিয়া"ড় মতো কাশ্মীরের প্রজারা
একটা প্রস্তাব গ্রহন করে রাজা কে জানিয়ে দেয় "কাশ্মীর কো ছোড় দো" I এঐ আন্দোলনের
নেতৃত্ব দিয়েছিল শেখ আব্দুল্লা
ও তার দল I এঐ আন্দোলন করার জন্য ১৯৪৬ এর মে মাসে, আব্দুল্লা ও তার সহ যোধ্যাদের দেশদ্রোহিতার
অপরাধে গ্রেপ্তার করেন রাজা হরি সিং I এই গ্রেপ্তারের ফলে কাশ্মীরের আইন-শৃক্ষলায় অনেক অবনতি হয় I এই সময় আসরে আসেন গান্ধীজি,নেহেরু,আবুল
কালাম সহ অনেকেই I সবাই শেখ আব্দুল্লাকে বোঝাতে শুরু করলেন,"জঙ্গি আন্দোলন ছেড়ে
শান্তি পূর্ণ রাস্তা বের করা হোক I বন্ধু নেহেরু আব্দুল্লাকে বোঝাতে সশরীরে কাশ্মীরে
হাজির হলেন I বন্ধুর অনুরোধে আব্দুল্লা "কাশ্মীর কো ছোড় দো আন্দোলন প্রতাহার করে
নিলেন I
কিন্তু এর পরও
মুক্তি পেলেন না আব্দুল্লা বা তার সাথীরা I
কাশ্মিরীরা আদতে
শান্তিপ্রিয়,অতিথিপরায়ন,অসাম্প্রদায়িক মানুষ I হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এক সাথে
রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে
লড়াই করা মানুষ I অনেক
ধর্মের অনেক রাজা কাশ্মীরের বুকে রাজত্ব করেছে I কিন্তু কোনোদিনই কোনো রাজত্ব্তেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হইনি কাশ্মীরের
বুকে I ১৯৪৭ এ প্রথম ধর্মের ভিত্তিতে জাতি দাঙ্গা হলো কাশ্মীরে I
১৯৪৭ থেকে ১৯৫৭ এর
মধ্যে জম্মুর মুসলিম সম্প্রদায়ের
উপর বাপ্যাক অত্যাচার-হত্যালীলা চালনো হয়েছিল প্রজা
পরিষদের
নেতৃত্বে I রাজা হরি সিং
নিজে প্রজা পরিষদের সাথ
দিয়েছিলেন I
১৯৪৭ এর জুনের দিকে
পুঞ্চ অঞ্চলের প্রজারা
রাজাকে কর দিতে অস্বীকার
করে I রাজার অত্যাচারে জর্জরিত
ঐ
এলাকার
এবং তার ধারে পাশের
মানুষেরা মিলে গড়ে তোলে
শসস্ত্র আন্দোলন I অক্টোবরে এই আন্দোলন বাপ্যাক
আকার নেই ই সব
জায়গা থেকে আন্দোলনকারীরা খুব
দ্রুত গতিতে শ্রীনগরের দিকে
এগোতে থাকে I ১৪ ই
অক্টোবর
পুঞ্চ
এলাকার বিদ্রোহীরা স্বাধীনতা ঘোষনা করে, 'আজাদ
কাশ্মীর'
সরকার গঠন হয় I

